প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২৯, ২০২৬, ৫:২৬ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৮, ২০২৬, ৭:০৭ পি.এম.

নাসিরনগরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, দ্রুত সমাধানের দাবি

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর (ব্রাক্ষণবাড়ীয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রচণ্ড গরমে দিনের পর দিন বিদ্যুতের বারবার আসা-যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপদে পড়েছেন। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে, ব্যবসা, বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম ও ইন্টারনেট নির্ভর বিভিন্ন সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর এলাকায় তুলনামূলক কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামের অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসছে, আবার কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। এতে বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ সবাই অসুবিধায় পড়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ অনেক বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও বিদ্যুৎ বিল কমছে না, বরং অনেকের বিল আগের চেয়ে বেশি আসছে। ভুক্তভোগীরা এতে বেশ ক্ষুব্ধ।

আরোও পড়ুন

নলডাঙ্গায় স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও তার সহযোগীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

এদিকে সামান্য মেঘ বা বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া যেন নাসিরনগরে নিয়মিত ঘটনা হয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টির রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে অনেক সময় দীর্ঘসময় যোগাযোগ ফিরে আসে না। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও কষ্ট সবার নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেক গ্রাহক। তারা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি করছেন।

এ বিষয়ে নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া বলেন,”জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। নাসিরনগরে দিনে প্রায় ২২ মেগাওয়াট এবং রাতে প্রায় ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ”সম্প্রতি ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ওয়াই ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলায় সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।”

এ পরিস্থিতিতে ডিজিএম মো. বাচ্চু মিয়া গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। তবে দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলছেন নাসিরনগরের বাসিন্দারা।