প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ২৮, ২০২৬, ৪:৩১ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১১:০৫ এ.এম.

হোয়াইক্যংয়ে ইউনিয়ন বিভাজন নিয়ে গণশুনানি পণ্ড, বিক্ষোভে অবরুদ্ধ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা

কামরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র জনবিক্ষোভের কারণে সীমানা নির্ধারণ–সংক্রান্ত গণশুনানি পণ্ড হয়ে গেছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় ভাঙচুর করলে কয়েকজন আহত হন এবং সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তাঁদের উদ্ধার করে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

গণশুনানি শুরুর আগেই ইউনিয়ন পরিষদের সামনে শত শত নারী-পুরুষ প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে জড়ো হন। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করব”, “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না”, “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে মানুষ কষ্ট পাবে”, “নাগরিক সেবায় চরম ভোগান্তি হবে”, “আমরা ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” ইত্যাদি।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন দুটি ভাগ হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে এবং নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাঁদের অভিযোগ, জনগণের মতামত নিখোঁজ করে ইউনিয়ন বিভক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন বিভক্তির লক্ষ্যে টেকনাফের বিভিন্ন ইউনিয়নের জন্য সীমানা নির্ধারণ কমিটির গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিন সকালে হ্নীলা ইউনিয়নে একটি গণশুনানি হয়েছে, কিন্তু সেটা যথাযথ প্রচার ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ হয়।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম অপি বলেন, হ্নীলার গণশুনানি নীরবে সম্পন্ন হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রতিনিধিকে সেখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা দুঃখজনক।

বিকেল ৩টায় হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত গণশুনানির আগেই বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে তালা খুললেও গণশুনানি শুরু হলে বিক্ষোভ আরও বাড়ে। এ সময় শত শত মানুষ স্লোগান দিতে থাকে এবং এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারসহ কয়েকজন আহত হন। বিক্ষুব্ধ জনতা সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের হলরুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্ধার করেন।

আরোও পড়ুন

মাদকবিরোধী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করল উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগ

এসআই আনোয়ার হোসাইন বলেন, “ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারসহ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও গাজীপুর জেলা সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, “প্রয়োজন জনগণের জন্য পরিষদ, আর পরিষদই জনগণের। হোয়াইক্যংয়ের বেশিরভাগ মানুষ ইউনিয়ন বিভক্তির বিপক্ষে। ইউনিয়ন বিভক্তি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ইউনিয়ন পৃথকীকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তবে হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, “গণশুনানি শুরু হওয়ার আগেই হট্টগোল ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাঠিয়ে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাসহ অন্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।”

এদিকে ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে টেকনাফজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ও সচেতন মহল ইউনিয়ন বিভক্তির আগে জনমতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।