প্রিন্ট এর তারিখ: জুলাই ৯, ২০২৬, ৮:৫২ এ.এম. || প্রকাশের তারিখ: জুন ২৪, ২০২৬, ৯:৪৭ পি.এম.

বাকেরগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

এম এইচ কামাল, বাকেরগঞ্জ(বরিশাল) প্রতিনিধি:

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের প্রতি বিরূপ আচরণ এবং অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সমস্যা, সেবার গুণমান, রোগীদের খাদ্যসম্পর্কিত বিষয় এবং বিশুদ্ধ পানির  অভাব নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। সাংবাদিকদের মতে, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্ভিস ও কার্যক্রমের ওপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য কিছু সাংবাদিক ডা. সুমি আক্তারের অফিসে গিয়েছিলেন।

যখন তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চান, তখন তিনি সহযোগিতাপূর্ণ আচরণে অনিচ্ছুক হিসেবে প্রতিক্রিয়া জানান। অভিযোগ করা হয়েছে যে, এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন, “বাকেরগঞ্জের অধিকাংশ সাংবাদিক ফাইভ পাস।”

সাংবাদিকদের দাবি, তারা এ বক্তব্যের ভিডিও সংরক্ষণ করেছে। তাদের অভিযোগ, বক্তব্য গ্রহণের সময় তিনি একাধিকবার ‘সাংবাদিক’ শব্দটি ‘সাম্বাদিক’ হিসেবে উচ্চারণ করেন এবং বিষয়টি উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান রোমান বলেন, “জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করা গণমাধ্যমকর্মীদের কর্তব্য। সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা উচিত। তবে সাংবাদিকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি আল-আমিন মিরাজ মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।”

এই ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, জনগণকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও সেবার মান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং সাংবাদিকদের প্রতি অসহযোগিতা বা অবমাননাকর মন্তব্য গণতান্ত্রিক প্রথার বিপরীতে।

অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য জানতে ডা. সুমি আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সাংবাদিকদের তথ্য প্রদান করা একটি স্বাভাবিক দায়িত্ব। যদি সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”

স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘৃণা প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।