এম এইচ কামাল, বাকেরগঞ্জ বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নে এক রাতের মধ্যে পাঁচটি বাড়িতে বড় ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ মোট ৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকার অধিক মূল্যবান জিনিস লুট করেছে।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ১৫ জুন রাত দেড়টা থেকে ১৬ জুন রাত সাড়ে দুইটার মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের চাটরা এলাকার রেজাউল করিম মানিক মাস্টার (৬০)। তিনি এবং তার স্ত্রী শ্বশুর জয়নাল আবেদীন খলিফার বাড়িতে বসবাস করেন।
এ ছাড়া একই বাড়ির বাসিন্দা ফরহাদ হাওলাদার, নাসির হাওলাদার, রিপন ফকির এবং নিজাম সিকদারের ঘরেও চোরেরা ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়েছে।
রেজাউল করিম মানিক মাস্টারের অভিযোগ অনুসারে, অজ্ঞাত পরিচয়ের চোরেরা তার বাসার প্রধান প্রবেশদ্বার ও অন্যান্য কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা স্টিলের আলমারি, ওয়ারড্রোবসহ অন্যান্য আসবাবের তালা ভেঙে নগদ ১,৫০,০০০ টাকা ও দুটি স্বর্ণের চেইন, যার মোট ওজন ১ ভরি ১৪ আনা, লুট করে। এর আনুমানিক মূল্য ৪,৮৬,০০০ টাকা।
এছাড়া একটি হাতঘড়ি, যার দাম প্রায় ৩০,০০০ টাকা এবং একটি বিদেশি টর্চ লাইট, যার দাম ১২,০০০ টাকা, সব মিলে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬,৫৮,০০০ টাকা হয়।
বাদী রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানের পরে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে ছিলেন। এই সময়ে চোরেরা পরিকল্পনা অনুযায়ী চুরি করে। বাড়িতে ফিরে তিনি সাক্ষী মাসুম বিল্লাহর মাধ্যমে চুরির বিষয়ে জানেন। চোরেরা ঘটনাস্থলে একটি টর্চ লাইট ফেলে রেখে গেছে।
এই ব্যাপারে অভিযোগ পুর্নরূপে লেখা হয়েছে বাকেরগঞ্জ থানায়। অভিযোগে অজ্ঞাত চোর/চোরদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলায় মাসুম বিল্লাহ (২৭), সালাম হাওলাদার (৪৫), দেলোয়ার হোসেন ছুন্নু (৬২) ও জসিম সরদার (৪২) সহ আরও বেশ কিছু ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়েছে।
একই রাতে পাশাপাশি পাঁচটি বাড়িতে সংঘটিত এমন চুরির ঘটনায় দুধল ইউনিয়নের জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা রাতের পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।