এম এইচ কামাল, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল):
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালের ভর্তি রোগী এবং তাদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সরকারীভাবে নির্ধারিত খাবারের মান এবং পরিমাণের চেয়ে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অপ্রতুল খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
রবিবার (১৪ জুন) স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করার সময় ভর্তি রোগী এবং তাদের স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা গেছে, তারা খাবারের পুষ্টিমান এবং মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রোগীদের অভিযোগ, খাবারের মান কখনও কখনও এত খারাপ হয়ে যায় যে তা খাওয়ার উপযোগী হয় না। গত সাত দিনের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনসী গ্রামের বাসিন্দা নুর আলম শেখ মন্তব্য করেন, “প্রতিদিন একই জাতের খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। তাই আমাদের বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়।”
রোগীদের আত্মীয়স্বজন অভিযোগ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যের জন্য বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। একটি অসাধু চক্র এবং ঠিকাদারির সাথে সখ্যতা বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। তাদের অভিযোগ, উচ্চ মানের চিকন চালের (মিনিকেট) ভাত সরবরাহের জন্য বলা হলেও রোগীদের নিম্নমানের চালের ভাত দেওয়া হচ্ছে।
তাছাড়া, খোলা পাম তেল, খোলা মরিচের গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়া ব্যবহার করে রান্না করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানিয়েছেন, একজন রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা নির্ধারিত। সকালে ডিম, কলা এবং পাউরুটি প্রদান করা হয়। যেদিন রোগীদের খাবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়, সেই তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অনেক কম খাবার সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় জনগণ বলছেন, অসুস্থ রোগীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাদ্য সরবরাহে অনিয়মের কারণে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন।
এই বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা না করে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।”
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর এ এলাহী জানান, তিনি পূর্বে বিষয়টি জানতেন না। তিনি এখন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

