প্রিন্ট এর তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১১:৩৪ পি.এম. || প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ৯, ২০২৬, ৯:৪৫ এ.এম.

অবৈধ চায়না ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টে এক লাখ টাকা জরিমানা

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জাল রাখার ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় নিয়ামতি বাজারের দুই ব্যবসায়ীকে নিষিদ্ধ জাল রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নিয়ামতি বাজারে এ অভিযান হয়।

অভিযান চলাকালে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা হয়। এ সময় দুই ব্যবসায়ীর কাছে নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জাল পাওয়া গেছে। পরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী লিটন সাহা ও অশোক দাসকে পৃথকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় হালদার। অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জালের ব্যবহারের কারণে মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয়দের মতে, বাজারগুলোতে নিষিদ্ধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ালে এসব জালের ব্যবহার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করার জন্য জেলে ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেছেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি চলবে। আইন অমান্য করে চায়না ও কারেন্ট জাল বিক্রি, রাখার কিংবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেছেন, জলজ সম্পদ রক্ষা শুধুমাত্র প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। ভবিষ্যতেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত অভিযান ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুফল পাওয়া যাবে।