দৈনিক নবদিগন্ত

শিশুরা তৈরি করল ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’, আঁকল মুক্তিযুদ্ধের ছবি

শিশুরা তৈরি করল ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’, আঁকল মুক্তিযুদ্ধের ছবি

রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে আজ বুধবার সকালে শিশু-কিশোরদের হাতে নির্মিত হলো এক অনন্য দেয়াল। এটি নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’। আয়োজনটি করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সহযোগিতায় ছিল ঐকতান সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র

শিশুরা কাগজের বাক্স দিয়ে দেয়াল তৈরি করে। পরে রং ও তুলির সাহায্যে তারা আঁকলো জাতীয় স্মৃতিসৌধ, রক্তিম সূর্য, সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ছবি। এগুলো কাগজের বাক্স দিয়ে বানানো দেয়ালে সাঁটানো হয়।

প্রতীকী অভিনয় ও শিশুদের অংশগ্রহণ

দেয়ালের সামনে শিশুরা প্রতীকীভাবে গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই অভিনয় ১৯৭১ সালের কালরাত্রি স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচারভাবে মানুষ হত্যা করেছিল।

শিশুদের আঁকা ছবি ও কাগজের বাক্সের মাধ্যমে তৈরি এই দেয়াল দর্শকদেরকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনুভূতি দিতে সাহায্য করছে।

শান্তির বার্তা ও সাদা পাখি

জাদুঘরের প্রাঙ্গণে সাদা কাগজের পাখিও বসানো হয়েছে। এগুলো শান্তির প্রতীক। কিছু পাখির ডানায় লাল রঙের ছাপ রয়েছে, যা রক্ত ঝরার প্রতীক। আয়োজকরা জানিয়েছে, সন্ধ্যায় এই পাখিদের মাঝে মোমবাতি জ্বালানো হবে, যা বার্তা দেবে—যতই ঝড় আসুক, আলো জ্বলবেই।

শিশুদের অভিজ্ঞতা

ছোটতম অংশগ্রহণকারীর মধ্যে একজন হলো ৬ বছর বয়সী আদি মদোক প্রভু, যিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি আঁকছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক শিশুদের এই উদ্যোগকে শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তবে এই দেয়াল তাদের মনস্তত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এনে দেবে।”

শিশুরা কাজ শেষে জাদুঘর ঘুরে দেখবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে।

আয়োজক ও শিক্ষকের বক্তব্য

ঐকতান সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষক সঞ্জয় দাস জানান, “শিশুরা জানে না ’৭১ কী, যুদ্ধ কী, বীরাঙ্গনা কী। তাই সহজ ভাষায় ও সরল কাজে মুক্তিযুদ্ধ বোঝানোর জন্য এই দেয়াল তৈরি।”
নিরুপমা চক্রবর্তী, ঐকতানের সাবেক শিক্ষার্থী, শিশুদের সঙ্গে কাজ করে বলেন, “শিশুদের মনস্তত্ত্বে এই কাজের ছাপ সবসময় থাকে। এখানে যুক্ত হয়ে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়েছে।”

বিশেষ আয়োজন ও অনুষ্ঠান

আজ বিকেল ৪টায় জাদুঘরের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘রিমেম্বারিং দ্য ১৯৭১ জেনোসাইড: মেমোরি, ডিনায়াল অ্যান্ড লেসন্স’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। এছাড়া প্যানেল আলোচনা, সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হবে।
সংগীত পরিবেশন করবে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, আবৃত্তি পরিবেশন করবে মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র, এবং আলোচনায় অংশ নেবেন তরুণ গবেষকরা।

Exit mobile version