আব্দুল আজিজ, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের উত্তর জনপদের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নওগাঁর সাপাহার। প্রতিবছর এ এলাকা থেকে হাজার হাজার মেট্রিক টন আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহসহ বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।
তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও কৃষি উপকরণের সংকটে আমের ফলন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। আবহাওয়ার প্রতিকূল প্রভাব সাপাহারের বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছে আমের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।
বাগান মালিকদের মতে, আমের মুকুল আসার সময় অসময়ে বৃষ্টি এবং বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী দাবদাহ বা খরা আমের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। অনেক গাছের ‘শীষা’ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আম ঝরে পড়েছে, যা ফলন হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি ও সেচ সংকট প্রচণ্ড খরায় আমের গুটি টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত সেচের প্রয়োজন থাকলেও চাষিরা পাম্পে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় বাগানে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বালাইনাশক প্রয়োগে বাধা আমকে রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত বিষ বা বালাইনাশক স্প্রে করতে হয়। কিন্তু এয়ার কুলার মেশিন বা পেট্রোল চালিত স্প্রে মেশিনগুলো জ্বালানি সংকটের কারণে চালানো যাচ্ছে না। এর ফলে অনেক বাগানে আমের গায়ে বিভিন্ন ধরণের ভাইরাসের আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে, যা আমের গুণগত মান নষ্ট করছে।
কৃষকের প্রত্যাশা সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চাষিরা স্বপ্ন দেখছেন, যদি আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং আমের বাজারমূল্য সন্তোষজনক হয়, তবে তারা বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে আনতে পারবেন। সাপাহারের আমের এই সংকট নিরসনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ পরামর্শ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় আম চাষিরা।

