দৈনিক নবদিগন্ত

‘তিশা আমার সিনিয়র, তবে বন্ধু’

Untitled design 12

‘শুটিংয়ে সহকর্মী হিসেবে পুরোনো বন্ধুকে পাওয়া গেলে অভিনয়ে একটা আলাদা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়। আড্ডা, গল্প আর মাস্তি করে শুটিং করা যায়। সময়গুলোই ভালো যায়,’ শুটিংয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী তাসনুভা তিশাকে পেয়ে এভাবেই আনন্দ প্রকাশ করলেন অভিনেতা শামীম হাসান সরকার। শুটিংয়ের মাঝেই জমে ওঠে আড্ডা।
‘আপনারা তো দুই প্রজন্মের শিল্পী, বন্ধুত্ব কীভাবে হলো’—এমন প্রশ্নে শামীম হাসান সরকার বলেন, ‘সত্য বলতে তিশা আমার সিনিয়র, তবে বন্ধু। সে আমার বেশ আগে অভিনয় শুরু করেছে। শুটিংয়ে সেটাও তাকে বলি, “তুই তো আমার সিনিয়র। তোকে কী বলব?” তুই–আপনি এগুলো ম্যাটার করেনি। বন্ধুত্বটাই আসল। কারণ, মিডিয়ায় ভালো বন্ধু পাওয়া কঠিন। এখানে কাজ করতে এসে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্

আট বছর আগে একটি নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁদের বন্ধুত্ব। জুটি হয়ে পরে অনেক নাটকে অভিনয় করেছেন তাঁরা। দীর্ঘ সময় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। এবার শেকড় দিয়ে ফিরলেন তাঁরা। নাটকটি পরিচালনা করেছেন সকাল আহমেদ। দিন শেষে শিকড়েই ফিরতে চায় মানুষ। সেই শিকড় চেনানোর গল্প ঘিরেই এই ঈদের নাটক।

এই অভিনেতা জানালেন, অনেকের সঙ্গেই নিয়মিত অভিনয় করেন। কিন্তু সেই অর্থে খুব বেশি শুটিংয়ে সহকর্মীর কাছ থেকে থেকে প্রশংসা পান না। এটা তাঁর কষ্টের জায়গা। জানালেন, নিজে সিনিয়রসহ অনেকের অভিনয়ের প্রশংসা করলেও তিনি নিজে শিল্পীর কাছ থেকে খুব একটা প্রশংসা বা সমালোচনা পান না।

‘একজন শিল্পীকে যখন সহশিল্পী বলেন “তোমার অভিনয় ভালো হয়েছে” বা কোনো একটা খুঁত ধরেন, সেটা ভালো কাজের জন্য অনেক সহায়তা করে। শুটিংয়ে সেই ফিডব্যাক পাই না। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও প্রশংসা করতে চায় না। এখানেই তিশা ব্যতিক্রম। প্রতিটি দৃশ্যের পর সে বলবে, ভালো হয়েছে। মনের অজান্তেই প্রশংসায় ভালো লাগা কাজ করে।’– বলেন শামীম।

পুরোনো বন্ধুদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই অভিনয় হয় না। তবে নিজের জায়গা থেকে তিনি সবার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। ‘শুটিংয়ে পুরোনো বন্ধুর দাম অনেক বেশি।’ কেন এটা মনে হয়—এমন প্রশ্নে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমরা যারা একসঙ্গে কাজ করে একটা সময় জায়গা করে নিয়েছি, তারা কিন্তু সবাই নিজেদের অভিনয়টা জানি। শুরুতে কিন্তু আমাদের অভিনয় আজকের মতো ছিল না। অনেক সময় অভিনয় ঠিকমতো হতো না। এখন পুরোনো যে বন্ধু সে কিন্তু সবই জানে। তাসনুভা তিশার কথাই যদি ধরি, একটি দৃশ্যে শুটিং শেষ করেই সে একবার বলল, “তোর রোমান্টিক দৃশ্যের অভিনয় আগের চেয়ে অনেক ভালো ভালো।” এই যে আগের সঙ্গে তুলনা এটা ধরিয়ে দিতে হয়। এটা কিন্তু শিল্পী নিজে থেকে সব সময় বোঝে না। এই ফিডব্যাকগুলো খুবই প্রয়োজন। যে কারণে পুরোনো সহকর্মীকে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার মনে করি।’

সবশেষে শামীম বলেন, ‘আমি আর তিশা একসময় নিয়মিত অভিনয় করেছি। কিন্তু হঠাৎ সে শুটিং থেকে বিরতি নেয়। ও নিয়মিত কাজ করলে আমরাও নিয়মিত ভালো ভালো গল্পে কাজ করতে পারব। আমি চাই ও নিয়মিত কাজ করুক।’

Exit mobile version