কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘাড়মোড়া ইউনিয়নের উত্তর মনিপুর গ্রামে মা ও দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি। এখনো কাউকে প্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
প্রবাসী জহিরুল ইসলামের বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সুখী (৩২), চার বছরের ছেলে মো. হোসাইন এবং পাঁচ বছরের ভাতিজা মো. জোবায়েরকে গলা কেটে হত্যা করে।
তিনটি আলাদা কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার উত্তর মনিপুর বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
বিক্ষোভকারীরা ‘খুনি কেন বাইরে, প্রশাসন জবাব চাই’ এবং ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগানে মুখর করে তোলেন।
বক্তারা বলেন, ঘরে ঢুকে মা ও শিশুদের এভাবে হত্যা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের স্বামী প্রবাসী জহিরুল ইসলাম তার খালাতো ভাই মো. শহিদুল ইসলাম, নিহত শিশু জোবায়েরের মা লিপি আক্তার, কুস্তিগীর বাঘা শরীফ, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী মো. হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত বলেন, মনিপুরের ট্রিপল মার্ডার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো রহস্য উদঘাটন হয় নাই। রহস্য উদঘাটনের নিমিত্তে হোমনা থানা পুলিশ পিবিআই, ডিবি, সিআইডি, রেপিড একশন ব্যাটালিয়নসহ (ব্যাব), একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি খুব দ্রুত মামলার রহস্য উদঘাটন হবে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত অথবা ঘাতকদের ফেলে যাওয়া কোনো আলামত উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনায় অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিন্তু কোনো আটক নেই। সন্দেহভাজন কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। মামলার রহস্য উদঘাটন শেষে হত্যার মোটিভসহ বিস্তারিত জানা যাবে।’
১৬ দিন পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা বাড়ছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে। তারা দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
