স্পিনের দারুণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশকে বড় ধাক্কা দিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডাম জ্যাম্পার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণ আট উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে থামিয়ে দেয় মাত্র ১৩১ রানে।
টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বড় স্কোরের লক্ষ্য রাখার কথা জানান। তবে বাস্তবে দেখা যায়, চট্টগ্রামের উইকেটে ব্যাটসম্যানরা প্রত্যাশা অনুযায়ী সুবিধা করতে পারেননি। শুষ্ক পিচে অসম বাউন্স, কিছুটা টার্ন এবং গ্রিপ থাকায় অস্ট্রেলিয়ান স্পিনারদের সামনে বাংলাদেশি ব্যাটাররা বারবার চাপে পড়েন।
বাংলাদেশের ইনিংস শুরুটা কিছুটা ইতিবাচক হলেও দ্রুতই ধস নামে। ২৬ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। তিন অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার—অ্যাডাম জ্যাম্পা, জোয়েল ডেভিস এবং ম্যাট রেনশ—মিলে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন। জ্যাম্পা ও ডেভিস তিনটি করে এবং রেনশ দুটি উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান আসে শেখ মেহেদি হাসানের ব্যাট থেকে, যিনি শেষদিকে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে দলকে ১৩১ রানে পৌঁছে দেন। শেষ জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তবে সেটি ম্যাচের চিত্র বদলাতে যথেষ্ট ছিল না।
বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের ইনিংস ছিল ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। তিনি আক্রমণাত্মক শটে শুরু করলেও দ্রুতই ফিরে যান জ্যাম্পার শিকারে। সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমনসহ টপ অর্ডার ব্যাটাররা কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস দুর্দান্ত বোলিং করেন। অভিষেকের দ্বিতীয় বলেই উইকেট নেওয়ার পর তিনি আরও দুটি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ভেঙে দেন। লেগ স্পিনার জ্যাম্পা অভিজ্ঞতার ছাপ রেখে গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট নেন।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও খুব স্থির ছিল না। জশ ইংলিস দ্রুত ফিরে গেলেও কুপার কনোলি ও টিম ডেভিডের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কনোলি ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এবং ডেভিড করেন ২০ রান।
বাংলাদেশের বোলাররা মাঝের ওভারে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারলেও লক্ষ্য ছোট হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া বড় বিপদে পড়েনি। শেষদিকে রেনশ ও নিখিল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও অস্ট্রেলিয়া ১০ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে।
বাংলাদেশের পক্ষে সাকলাইন দুটি উইকেট নিলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মুস্তাফিজ, শরিফুল, রিশাদ ও শেখ মেহেদিরা একটি করে উইকেট পান।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে একই ভেন্যুতে আগামী শুক্রবার।

