ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার মাইকিং নিয়ে চার গ্রামের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার ঘটনায় শুরু হওয়া উত্তেজনা শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে আবারও তীব্র আকার নেয়। সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করছিলেন। তখন পাশের খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজারে প্রথম সংঘর্ষ হয়।
রাতের সময়ে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, শনিবার সকাল ৭টার দিকে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ঢালসহ পুনরায় সংঘাতে নেমে আসে। মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের লোকজন হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উভয় পক্ষ ঘরবাড়ি ও দোকানের আড়াল থেকে ইট, পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এছাড়া, ফরিদপুর জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক করা হবে।”
