বগুড়ার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ৬০০-৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে আলু। খুচরা বাজারে একটু বেশি। প্রতি কেজি পাকরী আলু ২৫ টাকা, রোমানা ও কার্ডনাল ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান শহরের ফতেহ আলী বাজারের দোকানদার মামুন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২০১১-১২ মৌসুমে আলু চাষের পর ফলন পাওয়া যায় ১১ লাখ সাত হাজার ২২৫ টন। ২০১২-১৩ মৌসুমে ফলন হয় ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টন। এরপর থেকে দিন যতই গড়িয়েছে, আলুর ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর আলুর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ হাজার টন। এখন পর্যন্ত জেলায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াবে।
সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার আলুচাষি রফিক ইসলাম জানান, আলু গাছ বেশ সতেজ রয়েছে। এবার কোল্ড ইনজুরি ও লেট ব্রাইট রোগ হয়নি। জমির বেড বাঁধাই করার পর থেকে জমিতে আলু গাছগুলো লম্বা হয়েছে। ছোট ছোট ডালপালা ছড়িয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছর ভালো ফলন পেয়েছি। এ বছরও ভালো ফলন পাব। ইতোমধ্যেই বাজারে আলু বিক্রি শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
সদর উপজেলার আশোকোলা গ্রামের শুকু হোসেন জানান, প্রতিবছর এক বিঘায় আলু আবাদ করেন তিনি। এ বছরও চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। এছাড়া আমন ধান কাটতে দেরি হয়েছে। সে কারণে আলু আবাদে অনেক চাষি পিছিয়ে পড়েছেন। ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। কৃষকরা আমন ধান কেটে জমি তৈরি করে আবার আলু চাষে ঝুঁকেছেন। যারা আগে আলু চাষ করেছেন, তারা কিছু কিছু আলু তুলেছেন। এখন পুরো আলুর মৌসুম। জমি থেকে আলু তুলে চাষিরা হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, বাজারে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য ৬০-৮০ দিনের মধ্যে আলু তুলতে হয়। আর কোল্ডস্টোরেজে রাখতে আলু ৯০-৯৫ দিনের হতে হয়। জেলার ৩৩টির মতো কোল্ডস্টোরেজে দুই লাখ টনের কিছু বেশি আলু রাখা যায়।
