দৈনিক নবদিগন্ত

নওগাঁয় ১৬ মাসের মেয়েকে নদীতে ফেলে মায়ের থানায় আত্মসমর্পণ

Untitled design 38

নওগাঁর পত্নীতলায় ১৬ মাসের মেয়েকে আত্রাই নদে ফেলে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন এক মা। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা দেখেন, শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে শুশ্রূষা করছেন এক ব্যক্তি। পরে শিশুটিকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আপাতত শিশুটি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর সেতু থেকে শিশুটিকে আত্রাই নদে ফেলে দেন ওই মা। পরিবারের লোকজনের দাবি, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, শিশুটির জন্মের পর থেকে ওই নারী অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ওই মা। সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মাহমুদপুর সেতুর ওপর থেকে শিশুটিকে আত্রাই নদে ফেলে দেন তিনি। এরপর পত্নীতলা থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, নিজের সন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করেন।

এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় বলে জানান পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে নদীর তীরে স্থানীয় বাসিন্দা খমির শেখ (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে শিশুটির শুশ্রূষা করতে দেখা যায়। তিনি নদীর পানিতে থেকে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে বিশেষ কৌশলে শিশুর পেট থেকে পানি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

বর্তমানে শিশুটির দেখভাল পরিবারের অন্য সদস্যরা করছেন বলে জানান তার বাবা। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী কিছুদিন যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এতটা পাগলামি করবে, এটা আমরা ভাবতে পারিনি। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আমার মেয়ের দেখভাল পরিবারের অন্য লোকজন করছে। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আমার স্ত্রীকে মেয়ের পাশে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবন বাঁচানোয় খমির শেখকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version