Site icon দৈনিক নবদিগন্ত

চৌদ্দগ্রামে শিক্ষক লাঞ্চিত, অভিযুক্ত পলাতক

চৌদ্দগ্রামে শিক্ষক লাঞ্চিত, অভিযুক্ত পলাতক

এরশাদ রানা

কুমিল্লা

সামাজিক যোগাযোগ (ফেইসবুকে) ভাইরাল হওয়ার পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও ইবতেদায়ী শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান নেয়।

তার হাতে একই মাদরাসার মাধ্যমিক শাখার বাংলা শিক্ষক খায়রুল ইসলাম মারমুখী ও লাঞ্চিতের স্বীকার হয়।এমন ঘটনার সূত্র ধরে শনিবার রাতে জাহাঙ্গীর হোসেন কে একমাত্র আসামী করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন- এনটিআরসিএ থেকে আগত শিক্ষক খায়রুল ইসলাম।

রবিবার দুপুরে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন। মামলায় ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম উল্লেখ করেন,তিনি ওই মাদ্রাসার বাংলা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আর জাহাঙ্গীর হোসেন ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও একই সাথে তিনি ইবতেদায়ী শিক্ষক।সে খুবই দূর্দান্ত ও উগ্রপন্হী লোক,প্রতিষ্ঠাতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক ও কর্মচারীদের নানান ভাবে নির্যাতন করতো।কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে চাকুরীচ্যুত করার হুমকি সহ বেতন স্হগিত করে রাখতো। মামলায় তিনি আরো উল্লেখ্য করেন, গত ১৫ এপ্রিল তিনি সকাল পৌনে ১০টায় মাদ্রাসায় হাজির হলে জাহাঙ্গীর হোসেন তাকে দায়িত্ব অবহেলার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে শিক্ষক রুমে আটক করে অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে এলোপাতাড়ী ভাবে চড়-থাপ্পর মারে।

এসময়ে উপস্থিত শিক্ষকরা আমাকে তার থেকে রক্ষা করে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর হোসেন অন্যান্য শিক্ষকদের ক্লাসে পাঠিয়ে মাদ্রাসা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম ও অপর শিক্ষক শাহ আলম মজুমদারকে অফিসে থাকতে বলে। পরবর্তীতে আমি জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে জানতে চাই কোন অপরাধে আমাকে মারধর করা হলো। এ সময়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিস কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে পূনরায় মারধর শুরু করে। ২ শিক্ষকের সহযোগীতায় আমি অফিস থেকে বের হলে তিনি আমাকে পিছন থেকে ধাওয়া করে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অপর শিক্ষকদের সামনের আবারো মারধর শুরু গায়ের জামা ছিড়ে পেলে। এ সময়ে কে বা কারা ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এদিকে শিক্ষক খায়রুল ইসলামকে লাঞ্চিত করার ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকরা জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে।

ঘটনার পরপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটিও করেছে। গতকাল (রোববার) দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেনসহ অপর সদস্যরা সরেজমিনে মাদ্রাসায় পরিদর্শনে গিয়েছেন এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, লাঞ্চিত হওয়া শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বাদি হয়ে শনিবার রাতে জাহাঙ্গীর হোসেনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Exit mobile version